সর্বশেষ

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু হলে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আলোচনা সভা

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মতিন বলেছেন, চীনে যুগ যুগ ধরে উইঘুর মুসলমানদের উপর যে নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ২০০৯ সালের ৫ জুলাই উরুমকুই উইঘুর মুসলমানদেরকে দাঙ্গা ও গণহত্যার দায়ে চীন সরকারের বিচার করতে হবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উইঘুর গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়ে বিচার দাবি করেছে। পৃথিবীর শান্তিকামী প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, চীনে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে তাকে গণহত্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম গোষ্ঠীর লোককে জিনজিয়াংয়ে ডিটেনশন সেন্টারে আটক করে রাখা হয়েছে। মুসলমানদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা হচ্ছে, মসজিদ ভেঙ্গে পাবলিক টয়লেট ও শপিং সেন্টার করা হচ্ছে। মুসলিম মহিলাদের ধর্ষণ করছে ও বন্ধাত্ব গ্রহণে বাধ্য করছে। মসজিদে মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায় নিয়মিত বাধা প্রদান করা হচ্ছে। উরুমকির উইঘুর মুসলিমদের ইসলামি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করতে চীন সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। মুসলিম যুবকদের বৌদ্ধ মেয়েদের বিয়ে করতে অর্থের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।

মুসলিম গর্ভবতী নারীদের অবৈধভাবে গর্ভপাত করানো হচ্ছে। আবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছেলেদের কাছে মুসলিম মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হচ্ছে। ১৮ বছরের নিচে, শিশু-কিশোরদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। জিনজিয়াংয়ে মুসলমানদের তুর্কি ভাষা ও আরবি বর্ণমালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জিনজিয়াংয়ের ৫০টির অধিক পুরনো মসজিদ সীলগালা করে দিয়েছে চীন কর্তৃপক্ষ। ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান এম এ মতিন আরো বলেন, আমরা বিশ্বজুড়ে শান্তির নিবাস গড়তে চাই। যারা সাম্প্রদায়িক কারণে মুসলিম বা অন্য কোন জাতিগোষ্ঠির নিধনের পাঁয়তারা করবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার থাকব। রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, উইঘুর মুসলিম ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতন যেন একই সুতোঁয় গাঁথা।

চীনের মদদপুষ্টু হয়ে বার্মিজ জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে। তিনি অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ও চীনের উইঘুর মুসলমান গণহত্যার বিচার নিশ্চিতে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিশ্ব নেতৃত্বকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আজ (৫ জুলাই ২০২৩) বুধবার বিকাল ২ টায় উরুমকুই উইঘুর মুসলমান গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন। ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি অধ্যাপক আবদুর রহিম মুনিরীর সভাপতিত্বে ও দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা ফেরদৌস আলম আলকাদেরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধক ছিলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত বাংলাদেশ মহাসচিব পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ মছিহুদ্দৌলা (ম.জি.আ)।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, আইন বিষয়ক সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম মহাচিব মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, এম নুরুল ইসলাম জিহাদী, সহকারী দপ্তর সচিব ইঞ্জিনিয়ার নূর হোসেন, প্রচার সচিব মাস্টার আবুল হোসাইন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সচিব এনামুল হক সিদ্দিকী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সচিব মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা সচিব অধ্যাপক সৈয়দ মোকতার আহমেদ, শ্রম ও কৃষি বিষয়ক সচিব, এম মহিউল আলম চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি, মাওলানা ইয়াসিন হায়দারী, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন মাহমুদ, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক, আলী হোসেন, যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলার সভাপতি মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন আহমেদ জনি, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক বদরুল হুদা তারেক, ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল জাবের, দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ আরাফাত, উত্তর জেলার সভাপতি মুহাম্মদ আলী আকবর, মহানগরের দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী, উত্তরের সভাপতি মুহাম্মদ বেলাল রেজা, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নুরুদ্দীন প্রমূখ।

আরও পড়ুন